No icon

বোচাগঞ্জে এলজিইডি প্রকৌশলী অফিসে এডিপির বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজে অনিয়মের অভিযোগ

যোদ্ধা ডেস্কঃ
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার এলজিইডি অফিসের উপজেলা প্রকৌশলীর যোগসাজসে কতিপয় উপ-সহকারী প্রকৌশলীর বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্ণীতির কারনে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের এডিপির বাস্তবায়নাধীন টেন্ডারের মাধ্যমে কয়েকটি উন্নয়ন মূলক কাজে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। 
অভিযোগে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের জন্য বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৬টি প্রকল্পের জন্য  গত ১৮/০৪/১৯ ইং তারিখে-৪৬.০২.২৭২১.০০০.৯৯.১৮/৭৮৭ নং স্বারকে টেন্ডার আহবান করা হয়। উক্ত টেন্ডারের জন্য যথারিতী ৬জন ঠিকাদারকে উন্নয়ন মূলক কাজের কার্যাদেশ দেয়া হয়। নিয়মানুযায়ী ঠিকাদারগন নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করে বিল উত্তোলন করার নিয়ম থাকলেও সময়মত কোন কাজই সম্পাদন করা হয়নি।  ৬টি প্রকল্পের প্যাকেজে পৃথক পৃথক উন্নয়ন মূলক কাজের জন্য নির্ধারিত কিছু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদারের মাধেমে কাজ না করিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলীগন কাজের বিপরীতে নামমাত্র কিছু নগদ অর্থ হাতে ধরিয়ে দেন। ১নং নাফানগর ইউনিয়নের টেনা তালতলি মসজিদের মেরামত বাবদ পঞ্চাশ হাজার টাকা নির্ধারন করা থাকলেও মসজিদ কমিটির সভাপতির হাতে ২৭ হাজার ৫শত টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয় একই চিত্র টেনা পুর্বপাড়া মসজিদেও এছাড়া জাবারীপুর ঈদগাঁও মাঠ উন্নয়নের জন্য ১লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ থাকলেও সেখানে ৮২ হাজার ৫শত টাকা দেয়া হয় ঈদমাঠ কর্তৃপক্ষের হাতে। এছাড়া ৪নং আটগাঁও ইউনিয়নে আটগাঁও ঘাউরিপাড়া ও পাখিপাড়া ২টি জামে মসজিদের জন্য ১ লাখ টাকা বরাদ্ধ থাকলেও দেয়া হয়েছে ৬০ হাজার টাকার মত। এসব প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকরা অভিযোগ করে বলেন, তাদেরকে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসে ডেকে নিয়ে বিল ভাউচারে সু-কৌশলে স্বাক্ষর করিয়ে টাকা ধরিয়ে দেন উপ-সহকারী প্রকৌশলীরগন। মূল টাকায় স্বাক্ষর করার পর টাকা কম দেয়ার বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তাদেরকে নয় ছয় হিসাব বুঝিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া ৪নং আটগাঁও ইউনিয়নের বন্ধুগাঁও মাদরসায়ায় একটি টয়লেট নির্মানের জন্য টেন্ডার ও পিআইসি দুইটি প্রকল্পে একই কাজ দেখানো হয়েছে। বোচাগঞ্জ উপজেলায় এডিপির যেসব উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বা চলমান আছে এসব প্রকল্পে কাজের গুনগত মান নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। যেখানে ঠিকাদারগন কাজ করবে সেখানে খোদ অফিসের প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীর খবরদারীর কারনে নগদ অর্থ বিতরন করার বিষয়টি এলাকাবাসীর বোধগম্য নয়। অভিযোগ উঠেছে, বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সহ ৩ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান করছে। সার্ভিস পার্টিকুলারস থেকে জানা গেছে, উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন ০৬/০১/১৫ সাল থেকে অদ্যবাধি প্রায় ৫ বছর বোচাগঞ্জে, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ ০৯/০২/১২ সাল থেকে প্রায় ৮ বছর, স্মরণ কুমার দাস ১৮/০৭/২০১২ সাল থেকে অদ্যবদি ৭ বছর ও আব্দুল গণি ২৬/০৭/০৬ সাল থেকে প্রায় ১৩ বছর এছাড়াও ইতিপুর্বে তিনি নক্সাকার হিসেবে ১৯৯৩ সাল থেকে একই কর্মস্থল বোচাগঞ্জে কর্মরত আছেন। দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে চাকুরীর সুবাদে ঠিকাদারের সাথে তাদের একটি সখ্যতা গড়ে উঠার কারনে অনিয়ম ও দূর্নীতি হচ্ছে। উপরোক্ত অনিয়মের ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, কোন অনিয়ম হয়নি। নিয়ম মেনেই সকল কাজ সম্পাদন করা হচ্ছে। বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফকরুল হাসান ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে কম টাকা দেওয়ার বিষয়ে বলেন, বিষয়টি আমি দেখবো।  

 

Comment