দেশ

আমি মন্ত্রী, আমি তো বাস ঠিক করব না : ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বরেছেন, আমি মন্ত্রী; আমি তো বাস ঠিক করব না। এই বাস বন্ধ করলে আপনারা (সাংবাদিক) আগে রাস্তায় নামবেন। বলবেন জনগণকে কষ্ট দেয় সরকার। গত ১২ বছরে তো আমরা কম কাজ করিনি। পদ্মা সেতু হয়েছে, মেট্রোরেল হয়েছে। ১২ বছরের কথা এনে অপবাদ কেন দিচ্ছেন। এ মন্ত্রণালয়ের আওতায় কত কাজ হয়েছে। সব হবে একটু সময় দেন। চালু হলো ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের তেজগাঁও থেকে এফডিসি গেট সংলগ্ন ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘের ডাউন রাম্প। এটি নগরবাসীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার দিবেন। গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ এফডিসি গেট সংলগ্ন ডাউন রাম্প উন্মুক্তকরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রিত্বের ১২ বছরেও লক্কড়-ঝক্কড় বাস বন্ধ হয়নি কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি মন্ত্রী, আমি তো বাস ঠিক করবো না। বাসগুলো বন্ধ করলে আপনারাই (সাংবাদিক) আগে রাস্তায় নামবেন। বলবেন, জনগণকে কষ্ট দেই। ১২ বছরে আমরা কম কাজ করিনি। পদ্মা সেতু হয়েছে, মেট্রোরেল হয়েছে। ১২ বছরের কথা এনে অপবাদ কেন দিচ্ছেন? এ মন্ত্রণালয়ের আওতায় কত কাজ হয়েছে। সব হবে, একটু সময় দেন। আগামী বছরের শুরুতে পুরো প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরের কাওলা থেকে, বনানী, ফার্মগেট, কমলাপুর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত এ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ১৯.৭৩ কিলোমিটার, রাম্পসহ প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য ৪৬.৭৩ কিলোমিটার। এতে মোট ব্যয় ৮ হাজার ৯৪০কোটি টাকা। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি ৭২.৫১ শতাংশ। অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত নয়। দিবারাত্রি কাজ চলছে। আমরা পদ্মা সেতু মেট্রোরেল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করেছি। বিশ্ব পরিস্থিতিতেও কিছু জটিলতা আছে। যেসব দেশ এসব প্রকল্পের সাথে জড়িত তাদের সাথে আলোচনার এর বিষয়ে আছে। ঘাটে ঘাটে তাদের সাথে আলোচনা করতে হয়। বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যন্ত্রপাতি আমদানিতে কিছু সমস্যা হয়। আমাদের অনিচ্ছায় প্রকল্প দেরি হচ্ছে- এটা ঠিক নয়। প্রকল্পে অর্থায়ন নিয়েকোন জটিলতা আছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফান্ডিংয়ে জটিলতা থাকলে কাজগুলো হচ্ছে কি করে? রমজানে ঢাকায় যানজট নিয়ে তিনি বলেন, ইফতারের পরে তো যানজট থাকে না। রোজার মাসে কোন কোন সময়ে যানজট হয়। সব সময় থাকে না। যানজট নিরসনে আমাদের সকল পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো রেল চালু হওয়ায় সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। আরো পাঁচটি মেট্রো লাইন বাকি আছে। দুটির কাজ চলমান। এগুলো সম্পন্ন হয়ে গেলে আমরা একটা ইতিবাচক রেজাল্ট পাবো। পরে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তেজগাঁও থেকে এফডিসি গেট সংলগ্ন ডাউন রাম্পে যান চলাচল উন্মুক্ত করেন। ঢাকায় রমজান মাসে যানজট বাড়ে কেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মানুষের মধ্যে ঈদের আমেজের কথা ইঙ্গিত করে ওবায়দুল কাদের বলেন, রমজানে মানুষ ঈদ-ভারাক্রান্ত হয়, শপিংমলে যায়। যানজট একটু থাকবেই। তবে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত-তো যানজট হচ্ছে না। মানুষ কম সময়ে যাচ্ছে। এখন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আছে। ধীরে ধীরে ঠিক হবে। একসঙ্গে সব হবে না তো। বাস র্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন করা উচিত নয়। দিবারাত্রি কাজ চলছে। এই একটা প্রকল্প দেরি হয়েছে। এটাও হয়ে যাবে। আমরা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করেছি। বিশ্ব পরিস্থিতিতেও কিছু জটিলতা আছে। যেসব দেশ এসব প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয় আছে। বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যন্ত্রপাতি আমদানিতে কিছু সমস্যা হয়। আমাদের অনাদর ও অনিচ্ছায় প্রকল্প দেরি হচ্ছে, এটা ঠিক নয়। রমজানে ঢাকায় যানজট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইফতারের পরে যানজট থাকে না। রোজার মাসে কোনো কোনো সময় যানজট হয়। সব সময় থাকে না। যানজট নিরসনে আমাদের সব পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রো চালু হওয়ায় সময় ও অর্থ সাশ্রয় হচ্ছে। আরও পাঁচটি মেট্রো লাইন বাকি আছে। দুটির কাজ চলমান। এগুলো সম্পন্ন হলে যানজট আরও কমে যাবে। এসময় বিআরটি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও কথা বলেন তিনি। যাদের কাজ দেওয়া হয়েছে তাদের গাফিলতির কারণে একটিমাত্র প্রকল্প বিলম্বিত। আশা করি ডিসেম্বরের আগেই বিআরটিসির বিশেষায়িত বাস চলে আসবে। ডিসেম্বর থেকে বিআরটি প্রকল্প পুরোপুরি চালু হবে। এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহা সড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিনুল্লাহ নূরী, সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এমন আরো সংবাদ

এই সংবাদটিও পরতে পারেন
Close
Back to top button