No icon

রিজার্ভের অর্থ প্রথম পায়রায় বিনিয়োগ : চুক্তি সই

যোদ্ধা ডেস্কঃ  বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের প্রথম অর্থ খরচ হতে যাচ্ছে পায়রা সমুদ্রবন্দরের সাড়ে ১০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেল নির্মাণ কাজে। গতকাল রাজধানীর হোটেল রেডিসনে এই ড্রেজিং কাজটি করার জন্য বেলজিয়াম ভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি ‘জান ডে নুল’র সঙ্গে চুক্তি সই করেছে পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বিনিয়োগের এ সিদ্ধান্তকে ‘আমরাও পারি’ পদ্মার পর পায়রা সমুদ্রবন্ধর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরেকটি বার্তা বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। কেননা কিছুদিন আগে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদেরকে নিজের পায়ে চলতে হবে। নিজেদের অর্থায়নে কাজ করতে হবে। আমরা আমাদের দেশকে উন্নত করব, এটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সে লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের অনেক কাজ করার দরকার আছে। তিনি বলেছিলেন, আমাদের রিজার্ভ বৃদ্ধি পেয়েছে, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে। এই রিজার্ভের টাকা দেশের উন্নয়নে কীভাবে নিজেরা ব্যয় করতে পারি, সেটাই চিন্তা করছি।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী সেই চিন্তার ফসল হিসেবে কাজ শুরু হলো। এটি শেখ হাসিনার আরেকটি বার্তা। তিনি আরো বলেন, কিছুদিন আগে পায়রায় গিয়েছিলাম। আমার স্ত্রীও ছিলেন। আমরা ঘুরে দেখেছি, চমৎকার জায়গা। এর মধ্যে নিশ্চয় আরো পরিবর্তন হয়েছে। দ্রুতই কাজ শেষ হবে। এটা আমাদের অর্থায়নে হচ্ছে। আপনারা বারবার দেখছেন এটা। পদ্মা সেতুর ব্যাপারে দেখলেন। উই ক্যান (আমরা পারি)। আমাদের সাহস আছে, সম্পদও আছে। আমরা অনেকে এটা বুঝি না। আমরা নিজেদের মনে করি বুভুক্ষু জাতি। কিন্তু না, আমাদের সম্পদ আছে। সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এম এ মান্নান বলেন, সম্পদের কোনো অভাব নেই। আমি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে কাজ করি প্রায় আড়াই বছর হলো। সম্পদের অভাব কোথাও আমি ফিল (অনুভব) করিনি। অভাব মাঝে মাঝে আসে সততার, মাঝে মাঝে দায়বোধের।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে দেশের উন্নয়নে ব্যবহারের জন্য প্রধানমন্ত্রী ‘বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড’ তৈরি করেছেন এবং ২০২১ সালের ১৫ মার্চ তহবিলটির উদ্বোধন করেন। এই তহবিলের প্রথম গ্রাহক হিসেবে তিনি পায়রা বন্দরকে বেছে নিয়েছেন এবং আলোচ্য ড্রেজিং কাজটি এই তহবিল থেকে অর্থায়নের অনুমোদন করেছেন। নিজস্ব অর্থায়নের মাধ্যমে ড্রেজিং কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রায় ৫৩ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। দেশের প্রচলিত যাবতীয় বিধিবিধান প্রতিপালন করে আলোচ্য ড্রেজিং কাজটি সম্পাদনের বিশ্বখ্যাত বেলজিয়াম ভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি জান ডে নুলের সঙ্গে গতকাল পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের চুক্তি সই হয়েছে।

পায়রা বন্দরটি আন্দারমানিক নদীর তীরে রাবনাবাদ চ্যানেলে অবস্থিত। নিরবচ্ছিন্নভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য বর্তমানে চ্যানেলে মেইন্টেন্যান্স ড্রেজিং চালু রয়েছে, যার ফলে চ্যানেলের গভীরতা ছয় দশমিক তিন মিটার বজায় রাখা হচ্ছে। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বন্দরে অধিকতর বড় জাহাজ ভিড়ানোর জন্য ইতোপূর্বে বেলজিয়ামভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানি ‘জান ডে লু’র সঙ্গে একটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ চুক্তি সই হয়েছিল বলেও জানায় পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষ। আর এখন সেটা নিজস্ব অর্থায়নে করার সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ সরকার।

রাবনাবাদ চ্যানেলে ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ চ্যানেলের গভীরতা ১০ দশমিক পাঁচ মিটারে উন্নীত করা সম্ভব হলে বন্দরে ৪০ হাজার টন কার্গোবাহী এবং তিন হাজার টিইইউ বিশিষ্ট জাহাজ বন্দরে সরাসরি ভিড়তে সক্ষম হবে বলেও উল্লেখ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এই বন্দর কর্তৃপক্ষ আরো বলছে, দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর হিসেবে ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বরে পায়রা বন্দরের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বন্দরটিতে জাহাজ চলাচলের উদ্বোধন করেন। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত ১৩৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ বন্দরে প্রবেশ করেছে, যা থেকে সরকার প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে

Comment