জেলার খবরট্রেন্ডিং নিউজদিনাজপুরদেশবিদেশ

বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না চীন রাষ্ট্রদূত

যোদ্ধা ডেস্কঃ বাংলাদেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করবে না চীন। এমনটি বলেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। গতকাল বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন। চীন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা মোংলা বন্দরের উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেছি। এই বন্দর ও পদ্মা সেতু কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। বাংলাদেশের পশ্চিম অংশের উন্নয়নের ভালো সুযোগ আমাদের কাছে আছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে চায় চীন। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে বার্তা দিতেই আমি এখানে এসেছি।

নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, আমি আগেই জোর দিয়ে বলেছি, আমরা একটি বিষয়ে এখনো অবিচল যে, চীন কখনোই কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না। যে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে চীন। নির্বাচন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটিই আমাদের সিদ্ধান্ত।

মোংলা বন্দর উন্নয়নে কী ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, অপর এক প্রশ্নের জবাবে চীনের রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকীকরণে সহায়তা করবে চীন। বৈদ্যুদিক যান উৎপাদনে বিশ্বে আমরাই সবচেয়ে বড়। কাজেই আমরা কেন মোংলা বন্দরে বৈদ্যুতিক ও ব্যাটারি প্ল্যান্ট স্থাপন করবো না? আইসিটি, সৌর বিদ্যুৎ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত করণেও বাংলাদেশকে সহায়তা করতে পারবে চীন। তিনি বলেন, আপনারা জানেন, বাংলাদেশে বিপুল ফল উৎপাদিত হয়। এতে বাংলাদেশে প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প স্থাপনে সহায়তা করতে পারে চীন। কাজেই মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে আমরা অনেক সম্ভাবনা দেখছি।

এদিকে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও অনেকদূর এগিয়ে নিতে চায় চীন। বাংলাদেশও সেটা চায়। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে তাদের ভূমিকা খুবই পরিষ্কার। আমরা চাই, বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে যে দেশ কারা পরিচালনা করবে। বিভিন্ন খাতে চীন বিনিয়োগ করতে চায় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তারা যে ভূমিকা রাখছে, যেভাবে সহযোগিতা করছে, তা নিয়ে আমাদের কথা হয়েছে। মোংলা বন্দরের আধুনিকায়নে তারা একটি পরিকল্পনা দিয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের শিল্পের ক্ষেত্রে তারা বিনিয়োগ করতে চায়, কৃষি শিল্প, তৈরি পোশাক খাতে তারা ভূমিকা রাখতে চায়।

তিনি বলেন, আমাদের শিপিং লাইনে তাদের কাছ থেকে জাহাজ নিয়েছি। আরও চারটি চুক্তির পর্যায়ে আছি। এগুলো দ্রুত করার বিষয়ে কথা হয়েছে। যাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মসৃণ হয়। বাংলাদেশের নৌখাতে আরও বেশি বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে চীন। তিস্তা সংকট নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, গেল ২ আগস্ট রংপুরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সামনে তিনি বলেছেন যে নির্বাচিত হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবেন। এরপরে তো আর কথা থাকে না। মোংলা বন্দরে চার থেকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে।

এমন আরো সংবাদ

এই সংবাদটিও পরতে পারেন
Close
Back to top button