দেশ

থেয়ারওয়ার্ল্ডের বার্ষিক গ্লোবাল এডুকেশন ডিনারে ড. ইউনূসকে সম্মাননা

যোদ্ধা ডেস্কঃ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত থেয়ারওয়ার্ল্ডের বার্ষিক উচ্চপর্যায়ের গ্লোবাল এডুকেশন ডিনারে সবার জন্য শিক্ষার প্রচারণা করা বিশ্বনেতা ও পরিবর্তন সাধনকারীরা একত্রিত হন।

সোমবার (স্থানীয় সময়) নিউইয়র্কের এক হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে “Unlock Big Change Award” প্রদান। শিক্ষা, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা এবং অটল প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

থেয়ারওয়ার্ল্ড একটি আন্তর্জাতিক শিশু কল্যাণ সংস্থা, যা বৈশ্বিক শিক্ষা সংকট নিরসন ও নতুন প্রজন্মের সম্ভাবনা উন্মোচনে কাজ করছে।

অনুষ্ঠানটি সহ-আয়োজন করেন জাতিসংঘের গ্লোবাল এডুকেশন বিষয়ক বিশেষ দূত ও যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন এবং থেয়ারওয়ার্ল্ডের চেয়ার ও গ্লোবাল বিজনেস কোয়ালিশন ফর এডুকেশনের এক্সিকিউটিভ চেয়ার সারা ব্রাউন। তারা শিক্ষার মাধ্যমে জীবন ও সমাজ বদলের শক্তিকে তুলে ধরেন।

প্রফেসর ইউনূসের পাশাপাশি জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপো গ্রান্ডিকেও সম্মাননা দেওয়া হয়। তবে ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং শিক্ষাকে সেই মিশনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করার জন্য ইউনূসের আজীবনের কাজ উপস্থিত সবাইকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।
পুরস্কার প্রদানকালে গর্ডন ব্রাউন বলেন, “গত ৫০ বছরে বেসরকারি খাতে এমন কোনো প্রকল্প হয়নি যা ইউনূসের কাজের মতো এত মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি দিয়েছে।”

পুরস্কার গ্রহণকালে প্রফেসর ইউনূস পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ঋণ একটি মৌলিক মানবাধিকার—যা খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষার সমান গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “যদি মানুষকে আর্থিক ব্যবস্থার দরজা খুলে দেওয়া যায়, তবে কেউ আর দরিদ্র থাকবে না। আমি ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে শিক্ষাকেও যুক্ত করেছি, যাতে নারীরা নিশ্চিত করতে পারেন তাদের সন্তানরা স্কুলে যেতে পারে।”

তিনি তাঁর বক্তব্যে আর্থিক ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা সুযোগের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের গল্প শোনান, যারা ক্ষুদ্রঋণের মাধ্যমে পরিবারকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে এবং সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে সক্ষম হয়েছেন।

প্রফেসর ইউনূস প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের আহ্বান জানান এবং সৃজনশীলতা ও উদ্যোগী মনোভাবকে শৈশব থেকেই বিকশিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, “শিশুরা ছোটবেলা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার শিক্ষা পাবে।”
এছাড়া তিনি যোগ করেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীদের শেখানো উচিত কীভাবে ব্যবসাকে কল্যাণের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় হবে এমন একটি জায়গা, যেখানে মানবসমস্যা সমাধান শুধু উৎসাহিতই নয়, বরং প্রত্যাশিত হবে। সকল মানবসমস্যার সমাধান ব্যবসায়িক উপায়ে করা সম্ভব।”

এমন আরো সংবাদ

Back to top button