দেশ

‘গণভোট’র ফল বাতিল রিটের আদেশ আজ

যোদ্ধা ডেস্কঃ ‘গণভোট’ এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফলাফল বাতিল চেয়ে করা রিটের আদেশ আজ। এ ছাড়া ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ তথা সংবিধান সংস্কার ও বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ-২০২৫’ বাতিল চেয়ে করা পৃথক রিটের রুল জারি বিষয়ে আদেশ আজ। গতকাল সোমবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং বিচারপতি মো: আনোয়ারুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ, বিচারপতি ফাতেমা নজীব এবং বিচারপতি সিকদার মাহমুদ রাজীর ডিভিশন বেঞ্চ এ তারিখ ধার্য করেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে পৃথকভাবে এ রিট করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, জ্যোতির্ময় বড়–য়াসহ অর্ধডজন আইনজীবী। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও ‘গণভোট’র পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিকীসহ অর্ধডজন আইনজীবী। সরকারপক্ষে ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক শুনানিতে অংশ নেন।
রিটে উল্লেখ করা হয়, গণভোট প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ধরণের অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘন হয়েছে। এসব কারণে গণভোটের ফলাফল যথাযথ ও বৈধ নয় বলে দাবি করা হয়। রিটকারীর দাবি, হাইকোর্ট যেন গণভোটের ফলাফল বাতিল করে দেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেন।
রিটকারী আতাউল মজিদ তৌহিদ বলেন, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্বার্থে এ রিট দায়ের করা হয়েছে। জনগণের সুষ্ঠু ও ন্যায্য গণভোটের অধিকার সুরক্ষিত রাখতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গণভোট প্রক্রিয়া যদি অনিয়মমুক্ত না হয়, তবে তার ফলাফলও বৈধ বলে গণ্য হতে পারে না।
রিটে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ও অনিয়মগুলো বিবেচনায় নিয়ে গণভোটের ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ ও ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত গণভোটের ফল বাতিল চেয়ে করা রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত: গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। ফলাফল অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘হ্যাঁ’ চিহ্নিত পরিবর্তনের প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে অনুমোদন পায়। এ ভোটে মোট ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ভোটার, আর ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button