জেলার খবরট্রেন্ডিং নিউজহাই লাইটস
ট্রেন্ডিং

বোচাগঞ্জ উপজেলা সাবেক শিক্ষা অফিসার ও সহকারী শিক্ষা অফিসারের দুর্নীতির লাগাম ধরবে কে?

eeeeযোদ্ধাডেস্ক: দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সাবেক প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক ও সহকারী শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষের বেপরোয়া দুর্নীতির লাগাম ধরবে কে ? সচেতন মহলের প্রশ্ন, সাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষের খুঁটির জোর কোথায়? ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত অনুপম ঘোষকে বহাল রাখতে একটি মহল বিশেষের অপতৎপরতা কেন?
সীমাহীন দুর্নীতি অভিযোগে বোচাগঞ্জ উপজেলার সাবেক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিককে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক কুড়িগ্রাম জেলা সদর শিক্ষা অফিসে ষ্ট্যান্ড রিলিজ করা হলেও এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই তিনি পূর্বের ন্যায় তার দুর্নীতি একই ভাবে অব্যাহত রেখেছেন তার বর্তমান কর্মস্থলেও।

তার দুর্নীতির ফিরিস্তি দিয়ে একটি ইউনাইটেড টিভি নিউজ চ্যানেলে “কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বেপরোয়া বদলী বানিজ্য” শিরোনামে একটি তথ্য বহুল বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশিত হয়। ঐ প্রতিবেদনে কুড়িগ্রাম সদরের প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের বদলীতে অনিয়ম ও বদলি বানিজ্যের গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ করা হয়েছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিকের বিরুদ্ধে।

অপরদিকে সাবেক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিকের সকল দুর্নীতির একমাত্র সহযোগী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ঘুষ অনুপম বলে খ্যাত বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে প্রাথমিক ও গনশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এর দুর্নীতির মাধ্যমে নিয়োগ প্রাপ্ত অনুপম ঘোষ এর দুর্নীতির বিরুদ্ধে আজও কোন ব্যবস্থা গৃহীত না হওয়ায় বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তার দুর্নীতির রেশে এখনও আশংকামুক্ত হয়নি।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে গত দ্বিতীয় প্রান্তিক মুল্যায়নের প্রশ্নপত্র চড়াদামে বানিজ্যের অভিযোগ রয়েছে অনুপম ঘোষের বিরুদ্ধে। বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দীকের প্রত্যক্ষ মদদে ও যোগ সাজসে আটগাঁও ইউনিয়ন ক্লাসটারের ২৮টি স্কুলে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে বহুগুন দামে প্রশ্ন পত্র বিক্রি করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে অনুপম ঘোষের বিরুদ্ধে। প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের পরিপত্র অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রশ্নপত্র তৈরী করবে। কিন্তু বোচাগঞ্জ উপজেলার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। অভিযোগ রয়েছে সম্প্রতি তাৎক্ষনিক বদলীপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক ও সহকারি শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষের যোগসাজসে প্রধান শিক্ষক গন কে প্রশ্নপত্র ছাপাতে না দিয়ে অফিস নির্ধারিত চড়া মূল্যে প্রশ্ন কিনতে বাধ্য করে এতে উপজেলার স্কুল সমুহ হতে প্রতি পরীক্ষায় আত্মসাত হয়ে যায় লাখ লাখ টাকা। অভিযোগ আছে নতুন নীতিমালা হওয়ার পূর্বে ১ম সাময়িক পরীক্ষাতেও একইভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয় সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দীক ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও খানসামা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা কালীন প্রশ্ন পত্রের অবৈধ ব্যবসা ও একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে অনুপম ঘোষের বিরুদ্ধে।

এছাড়াও উক্ত সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষ, অফিস সহকারী মতিয়ার রহমান ও বোচাগঞ্জ উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা এস এম রাকিবুল হাসান এদের যোগসাজসে বোচাগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্কুল সমুহে স্লীপ সহ বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজের বরাদ্দকৃত অর্থ  অবৈধ ভাবে অনুমোদন ও অর্থ  ছাড় দিয়ে প্রকল্পের সিংহভাগ অর্থ  আত্মসাত করার অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দিক ও শিক্ষকদের বেতন সমতাকরনে ৫৪ জন শিক্ষকের নিকট থেকে মাথা পিছু ২৫ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায়, ২০২৩ সালে শিক্ষক নিয়োগ স্থায়ী করনে ৯৬ জন সহকারি শিক্ষকের নিকট ৯৬ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, শিক্ষকদের গ্রেড পরিবর্তনের জন্য ১৭০ জনের নিকট ২ হাজার টাকা হিসাবে ৩লক্ষ ৪০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ, সিনিয়ারিটি মেইনটেইন না করে ঘুষের বিনিময়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণে পাঠানো, শিক্ষকদের মাতৃত্বকালীন ছুটি, চিকিৎসা ছুটি, ও বর্হির গমন ছুটির ক্ষেত্রে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণ। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে স্কুল সমুহে বরাদ্দকৃত অর্থ ৪৯ হাজার টাকা আত্মসাত, মৌখিক ডেপুটশনে বিভিন্ন স্কুলে ঘুষের বিনিময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও সহকারী শিক্ষক দেওয়া, বর্হির বাংলাদেশ ছুটি এন্ট্রি না করে বেতন কর্তন ছাড়াই ঘুষের বিনিময়ে অবৈধভাবে শিক্ষকদের উপস্থিতি স্বাক্ষর গ্রহন করার সুযোগ দিয়ে মোটা অংকের ঘুষ আদায়, বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বই উত্তোলনের জন্য তথ্য হালফিল করার জন্য নতুন ১৮টি কিন্ডার গার্টেন স্কুল প্রতি ২০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন, শ্রান্তি বিনোদনের ছুটির ভাতার জন্য শিক্ষকদের নিকট মোটা অংকের ঘুষ গ্রহন, উপজেলার ১৩২টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা করে ক্যাম্পপুরি অনুষ্ঠান করার জন্য গ্রহন করার পর উক্ত অনুষ্ঠান না করে ৫৮ হাজার টাকা আত্মসাত, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট কেন্দ্র সমুহে সিসি ক্যামেরা ও ডেকোরেশনের মালামাল নিজে ক্রয় করে শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হলেও নির্বাচনের পর বেশিরভাগ ভোট কেন্দ্রে ঐ সমস্ত মালামাল খুলে নিয়ে তা আত্মসাত করা হয়, বিভিন্ন খাতে সীমাহীন দুর্নীতি ও এমনি ধরনের বহু অভিযোগ রয়েছে সাবেক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দীক, সহকারী শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষ, অফিস সহকারী মতিওর রহমান ও উপজেলা হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা এস এম রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে। উক্ত অভিযোগ সমুহের বিষয়ে মতামত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে সাবেক শিক্ষা অফিসার ও সহকারি শিক্ষা অফিসারকে মুঠোফনে কল করে পাওয়া যায়নি। এলাকাবাসী উক্ত শিক্ষা অফিসার আবু বক্কর সিদ্দীক, উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অনুপম ঘোষ, অফিস সহকারী মতিয়ার রহমান ও হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা এস এম রাকিবুল হাসানের সীমাহীন দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট এমপি সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এমন আরো সংবাদ

Back to top button