কোস্ট গার্ডের সদস্য সংখ্যা ১০ হাজারে উন্নীত হচ্ছে, যুক্ত হচ্ছে হেলিকপ্টার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যোদ্ধা ডেস্কঃ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ধরনের উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বাহিনীর বর্তমান জনবল পর্যায়ক্রমে ১০ হাজারে উন্নীত করার পাশাপাশি এর সক্ষমতা বাড়াতে হেলিকপ্টার, মেরিটাইম সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম এবং রেসকিউ ড্রোন যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘কোস্ট গার্ড দিবস-২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৯৫ সালে ‘Guardian at Sea’ মূলমন্ত্র নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বাহিনী আজ উপকূলীয় মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তিনি স্মরণ করেন যে, বিএনপি সরকারের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই বাহিনীর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল, যা আজ এক বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, কোস্ট গার্ডের আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই তিনটি সার্ভেইল্যান্স ড্রোন বহরে যুক্ত হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে মাল্টিরোল রেসপন্স ভেসেল ও অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল। এ ছাড়া, খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে বুলেটপ্রুফ হাই-স্পিড বোট ক্রয়ের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ায় একটি আধুনিক ডকইয়ার্ড নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের প্রক্রয়াধীন রয়েছে।
সুন্দরবনের জলদস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের ভূমিকার প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত এক বছরে ২৯টি অভিযানে ৩৫ জন ডাকাত গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ কাঠ উদ্ধার করে বনজ সম্পদ রক্ষায় বাহিনীটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী চিন্তা এবং তারেক রহমানের দক্ষ নেতৃত্বে এই বাহিনীকে একটি বিশ্বমানের আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। আমাদের লক্ষ্য—সততা ও সাহসিকতার মাধ্যমে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’কে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করা।উপকূলীয় এলাকার মাদক পাচার, মানব পাচার, অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে কোস্ট গার্ডের কার্যক্রম আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



