হাই লাইটস

সেন্টমার্টিন বিক্রি করে ক্ষমতায় যাব না

‘সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিক্রি করে বা কাউকে লিজ দিয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাবে না’ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল কাতার ও সুইজারল্যান্ড সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের এই অবস্থান জানান।

তিনি বলেন, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কন্যা। কারও কাছে এ দেশের সম্পদ বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিলে আমি ক্ষমতা থাকতে পারতাম। এখন যদি বলি সেন্টমার্টিন দ্বীপ কারও কাছে লিজ দেব তাহলে ক্ষমতা থাকার কোনো অসুবিধা নেই। আমার দ্বারা এটা হবে না। আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে কাউকে খেলতে দেবো না। তারা (বিএনপি) গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। এখন তারা দেশ বিক্রি করবে। তারা নাকি সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিক্রির মুচলেকা দিয়ে আসতে চায়। গণভবনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনটি টেলিভিশনগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। এ সময় তিনি আরো বলেন, আইন অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়েছে। ছবিসহ ভোটার তালিকা আছে। সংবিধান অনুযায়ী ভোট হবে। জনগণ যদি ভোট দেয় তাহলে আছি, না হলে নাই। আমি জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করি। সংবিধানে অনির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের কোনো সুযোগ নেই। সবাই এটা জানে (উচ্চ আদালতের রায় এবং সংবিধান সংশোধন)। এটা জানার পরও তারা কেন সাংবিধানিক সংকট তৈরির চেষ্টা করছে? এর উদ্দেশ্যটা কী? সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনকালীন সরকার, নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, জ্বালানি সঙ্কট, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, সংখ্যালঘু নির্যাতন, ব্রিকস জোটে যোগদান, মূল্যস্ফীতি, অপপ্রচার, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশের ভারতের সঙ্গে আমাদের সুসম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু ভারত একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন দেশ। তাদের নিজের সার্বভৌমত্ব আছে। কাজেই তারা কি করবে, না করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার। আমাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক আছে। শুধু এইটুকু বলতে পারি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল, কীভাবে? তখন তো গ্যাস বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল। তাহলে এখন তারা দেশ বিক্রি করবে, নাকি সেন্টমার্টিন বিক্রি করার মুচলেকা দিয়ে আসতে চায়? আমার হাত থেকে এই দেশের কোনো সম্পদ কারও কাছে বিক্রি করে ক্ষমতায় আসতে চাই না। ওই গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দিলে আমিও ক্ষমতায় থাকতে পারতাম। আর এখনো যদি আমি বলি, ওই সেন্টমার্টিন দ্বীপ বা আমাদের দেশ কাউকে লিজ দেব, তাহলে আমাদের ক্ষমতায় থাকতে কোনো অসুবিধা নেই।

কোনো দেশকে লিজ দিলে ক্ষমতায় থাকতে অসুবিধা নেই, সে বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত কিছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী। তবে তিনি এও বলেছেন, আমাদের দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আমি কাউকে খেলতে দেব না, আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। আমার দেশের মাটি ব্যবহার করে কোনো জায়গায় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাবে, কাউকে অ্যাটাক (আক্রমণ) করবে বা এই ধরনের কাজ আমরা হতে দেব না। আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি, শান্তিপূর্ণ সহযোগিতায় বিশ্বাস করি।

নির্বাচনীকালীন সরকারব্যবস্থা নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু এ দেশে ‘ওয়েস্টমিনিস্টার টাইপ অব ডেমোক্র্যাসি’, ইংল্যান্ডের মতো জায়গায় যে রকম নির্বাচন হয়, ঠিক সেইভাবে এখানে নির্বাচন হবে। বিরোধী দলের নানা প্রস্তাব, এখন তারা (বিএনপি) আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার চায়। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে খালেদা জিয়ার (বিএনপি চেয়ারপারসন) উক্তি ছিল, ‘পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নেই’। একবার যেটা তারাই বাদ দিয়েছে এবং এই পদ্ধতি তারাই নষ্ট করেছে। তারাই রাখেনি, সেটাকে আবার তারা ফেরত চাইছে। অথচ উচ্চ আদালতের রায় আছে এবং সেই মোতাবেক সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে যে একজন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বা সরকারপ্রধান আরেকজন নির্বাচিত সরকারপ্রধান দ্বারাই প্রতিস্থাপিত হবেন। এর বাইরে অনির্বাচিত কেউ আসতে পারবে না। এটা উচ্চ আদালতের রায়ে আছে, সংবিধানেও আছে।

এটা জানার পরও সাংবিধানিক জটিলতার সৃষ্টি চেষ্টা হচ্ছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার মানে এই যে গণতান্ত্রিক ধারাটাকে নষ্ট করা। এই যে দীর্ঘ সাড়ে ১৪ বছর বাংলাদেশ সুষ্ঠুভাবে চলছে, আর্থসামাজিক উন্নতি করছে, সেটিকে নষ্ট করা। দেশবাসী এটিকে কীভাবে নেবেন, সেটাই প্রশ্ন। তারা কি গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা চান, অর্থনৈতিক উন্নতি চান, দেশের মানুষের কল্যাণ হোক সেটা চান, নাকি আবার সেই ২০০৭ সালের মতো তত্ত্বাবধায়ক সরকার, আবার সেই জরুরি অবস্থা, ধরপাকড় সেগুলো চায় সেটা দেশের মানুষকেই বিবেচনা করতে হবে।

২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস করেছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, নির্বাচন বানচাল করার জন্য বিএনপি-জামায়াত ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে যেভাবে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, ৩ হাজার ৮০০ গাড়ি পুড়িয়েছে, ৩ হাজারের ওপরে মানুষকে পুড়িয়েছে। কত মানুষ পঙ্গু হয়ে আছে, কত পরিবার ধ্বংস হয়ে আছে। জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষের ক্ষতিগুলো করে দিয়েছিল তারা, সেটা মানুষ এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাবে?

সংখ্যালঘু নির্যাতন ইস্যু : মার্কিন কয়েকজন কংগ্রেসম্যান বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন, সেটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের লোকজন এটার প্রতিবাদ করেছে। তারা বলেছে যে, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভুয়া তথ্য। সেভাবে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। নির্বাচন যত কাছে আসবে আরও বেশি করে এ ধরনের প্রচারণা চালাবে তারা। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখেই চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা নিয়ে এক ধরনের অপপ্রচার শুরু হয়েছে। শুধু এটা নয়, ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে নানা ধরনের অপপ্রচার করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে দেশের মানুষকে সচেতন হতে হবে। তাদের অপপ্রচারে কান দেবেন না, বিভ্রান্ত হবেন না।

আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা নেই : আগাম নির্বাচনের সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে কী এমন পরিস্থিতিতে পড়লেন যে নির্বাচন আগে দিয়ে আপনাদের মুক্তি দিতে হবে? নির্বাচন যখন সময় হবে তখন হবে। আমাদের সংবিধান অনুযায়ী যখন নির্বাচন হওয়ার সুনির্দিষ্ট সময় আছে সেই সময়ই নির্বাচন হবে, এটা হলো বাস্তবতা। অনেক ত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রেখেছি। আপনারা কি চান না এই গণতান্ত্রিক ধারাটা অব্যাহত থাকুক। সময় মতো নির্বাচন হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইলেকশন যখন হওয়ার হবে। নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দেবে। জনগণ ভোট দেবে। যদি আমাকে ভোট দেয় আমি আছি। না হলে নেই। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এটাকে বাস্তবায়ন করতে হবে ২০২৬ সালের মধ্যে। এই ২৬ সালের মধ্যে এটা বাস্তবায়ন করার মতো সক্ষমতা কার আছে বা কে এটা পারবে? জনগণ তাকে বেছে নেবে। আমার কোনও কিছু করার নেই। এখানে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। কাজেই আপনাদের এত টেনশন করার কিছু নেই। তারা (বিরোধীরা) কিছু তো কথা বলবেই। আর বললে তো ভালোই। ওরা আন্দোলন করছে করুক। দেখি আমরা। আমি জনগণের ক্ষমতায় বিশ্বাস করি। অন্য কিছুতে নয়।

ডাকাতরা বলে ভোট চোর : বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, যারা গণতন্ত্রকে হত্যা করে গণতন্ত্রের প্রবক্তা সেজেছে স্বাভাবিকভাবে তারা কখনোই এদেশের কল্যাণ চাইবে না। তারা একটা ঘোলাটে পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইবে। সেখানে দেশি-বিদেশি নানা রকমের লোকই থাকবে। তারা ঘোট পাঁকাবে। আমি মনে করি আমাদের দেশের সচেতন নাগরিক তারা এসবকে কেন গুরুত্ব দেবে। মানুষের যদি পছন্দ হয় আমাকে ভোট দেবে, না হয় না দেবে। না দিলে নেই। আমি থাকব না। আমিও কী ভোট চুরি করতে যাব? দুর্ভাগ্য হলো আমরা ভোটের অধিকারের জন্য সংগ্রাম করলাম আর আমাদের যারা ভোট চোর বলে, যারা হলো ভোট ডাকাত। যাদের উত্থানটাই হলো ডাকাতি করে, খুন করে হত্যা করে।

দেশকে নিয়ে খেলবে : এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ স্থিতিশীল থাক, উন্নতি করুক, মানুষের আর্থিক সচ্ছলতা আসুক এটা তো চায় না। তারা ক্ষমতায় থাকতে লুটেপুটে খেতো। সেই খাওয়াটা বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু তো আছে দেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য দেশে আক্রমণ করবে। আমার দেশকে নিয়ে খেলবে। এটা তো অন্তত আমি হতে দেবো না। দেশে অপরাধ করে বিদেশে গিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে মন্তব্য তিনি বলেন, তারা তো চিহ্নিত লোক। মানুষকে তারা বিভ্রান্ত করছে। আমি দেশবাসীকে বলব, এই সমস্ত অপপ্রচারে কান দেবেন না, বিভ্রান্ত হবেন না। নিজেদের মনে প্রশ্ন করতে হবে, ভালো আছেন কিনা, দেশটা ভালো চলছে কিনা, দেশটা এগুচ্ছে কিনা, দেশের আরও উন্নতি হবে কিনা।

ব্রিকস জোটে যোগ দেবে : সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার, আদ্যক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত আঞ্চলিক অর্থনীতির একটি সংঘ ব্রিকস-এ বাংলাদেশ যোগ দেবে। তবে আন্তর্জাতিক কোনোও মুদ্রা চালু করার সিদ্ধান্ত আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আদার ব্যাপারীকে জাহাজের খবর নিতে বলছেন। এটা তো বড় বড় ধনী দেশ, উন্নত দেশ তারা করে। তবে ব্রিকস-এ আমরা যোগ দেবো এই কারণে যে ব্রিকস যখন প্রথম থেকে প্রস্তুতি নেয় আমরা এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা ফাউন্ডার মেম্বার হতে পারিনি। আমরা এখন চেয়েছি এটার মেম্বার হতে। আমরা চাচ্ছি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো একটার ওপর নির্ভরতা যেন না হয়। কাজেই অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আমাদের ‘বিনিময়ের’ সুযোগটা থাকে। আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো যেন আমরা সহজে ক্রয় করতে পারি। আমাদের দেশের মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারি। সেই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে ব্রিকসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যতটুকু সম্ভব আমরা এর সঙ্গে আছি। তিনি আরো বলেন, এখানে আমরা দেখবো বিকল্প কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যবহারের ব্যবস্থা কেউ যদি নেয় আমরা তার সঙ্গে আছি। এরই মধ্যে আমরা কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছি। আমরা নিজস্ব অর্থের বিনিময় ক্রয়-বিক্রয় করতে পারি। সেই পদক্ষেপ আমরা ইতোমধ্যে নিয়েছি। শুধু ডলারের ওপর নির্ভরশীল নয়। নিজের অর্থে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বিনিময়টা যেন করতে পারি। কেনাবেচা যা লাগে করতে পারি। সেদিকে আমাদের কিছু পদক্ষেপ নেয়া আছে। যখন ভালোভাবে এটা কার্যকর হবে তখন দেখতে পারবেন।

যে মুদ্রায় সুবিধা সেখানে যাব : বিশ্বে অনেক মুদ্রার প্রচলন রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে তো অনেক মুদ্রাই চলে। ডলারও যেমন চলছে, ইউরোপিয়ান দেশগুলো ইউরো দিয়ে চালায়। এ রকম বিভিন্ন ক্ষেত্রে আছে। যেখানে আমাদের সুবিধা হবে সেখানে সম্পৃক্ত হবো। আমাদের জন্য যেটা কল্যাণকর হবে সেটা করব। একটার ওপর নির্ভরশীল থাকার যুগ আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে। এটা হলো বাস্তবতা। তবে সেটা এখনও সেভাবে তৈরি হয়নি। যদি হয় আমরাও আমাদেরটা বিবেচনা করবো। যখন যেটা যেভাবে দরকার সেভাবে করব।

কাঁচামরিচের ফর্মুলা : বাংলাদেশে বাজার সিন্ডিকেটের কথা স্বীকার করে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সুযোগসন্ধানী কিছু লোক তো থাকেই। সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ সরবরাহ থাকার পরে যখন দাম বাড়ে। কিছু লোক তো মজুতদারি করে। ইচ্ছে করে মজুতদারি করে দাম বাড়ায়। যারা এভাবে মজুতদারি করে কালোবাজারি করার চেষ্টা করে অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আমাদের নিতে হবে। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপনারাও (গণমাধ্যম) খুঁজে বের করে দেন। কোথায় কে মজুত করল…। আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। মৌসুম অনুযায়ী জিনিসপত্রের দাম বাড়ে কমে এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, বর্ষাকালে কেউ ক্ষেতে কাঁচামরিচ তুলতে যেতে পারে না। কাঁচামরিচের দাম বাড়লে সবাই চিৎকার করে। আমি সবাইকে আহ্বান করবÑ কাঁচামরিচ কিনে রোদে শুকিয়ে রেখে দিন। বর্ষাকালে যখন দাম বাড়বে ওটাকে একটু পানিতে রাখতেই তাজা হয়ে যায়। আবার রান্না করে খাওয়া যায়। সহজ বুদ্ধি। কাজেই ওইগুলো শুকান। শুকিয়ে রেখে দিন। অতিরিক্ত টমেটো হয়েছে, রোদে শুকিয়ে রেখে দিন। সানড্রাই টমেটো তো বিদেশে ভীষণভাবে চলে। আমরাও সব কিছু করবো। পেঁয়াজেও তাই। উৎপাদন হলে সংরক্ষণের ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, নিজেরা ছাদের ওপরে একটি কাঁচামরিচ গাছ যদি লাগান, আমি গাড়ি বারান্দার ছাদের ওপর লাগিয়েছি, আজ দেখলাম খুব সুন্দর ফুল আসছে। বর্ষা আসতে আসতে আমার কাঁচামরিচ হবে। আমার কেনা লাগবে না। ওখান থেকে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে পাব। এ রকম যদি সবাই করে তাহলে তো কষ্ট থাকে না। যার যার জায়গায় সে সে এটা করলে আমাদের কষ্টটা দূর হয়ে যায়। আমাদের মাটিও তো চমৎকার উর্বর। এখন কাঁচামরিচ ফর্মুলা দিলাম’।

সুন্দর ফুল বেছে নেবো : আওয়ামী লীগ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে জনতার ক্ষমতা জনতার হাতে ফেরত দিয়েছে দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলতে পারে। কিন্তু যারা এই কথা বলছেন তারা তো কখনও জনগণের কাছে গিয়ে তৈরি না। তাদের ভোটের জন্যও তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে যখন ইলেকশন হবে অনেকেই তো প্রার্থী হতে পারে। প্রার্থী যদি হয় শত ফুল ফুটতে দিন, যে ফুলটি সব থেকে সুন্দর সেটা আমি বেছে নেবো। স্বাভাবিকভাবেই সামনে ইলেকশন এলে দলের অনেকের প্রার্থী হওয়ার আকাক্সক্ষা থাকবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই। নির্বাচনে কাকে প্রার্থী করা হবে কাকে করা হবে না এটা তো আমাদের দলের লক্ষ্য থাকে। একটা নির্বাচন যখন হয় তখন আমরা প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা, প্রার্থীর সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা এসব বিবেচনা করি। সেখানে যদি আমরা নারীদের পাই তাদের দেই। তখন একটা বিষয় এসে যায় কে জয়ী হয়ে আসতে পারবে।

প্রধানমন্ত্রীর ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট ও কাতার ইকনোমিক ফোরামে অংশগ্রহণের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আইএলও’র মহাপরিচালকের আমন্ত্রণে ‘ওয়ার্ল্ড অফ ওয়ার্ক সামিট: সোশ্যাল জাস্টিস ফর অল’-এ যোগ দিতে আমি ১৩ থেকে ১৬ জুন ২০২৩ জেনেভা সফর করি। এ শীর্ষ সম্মেলনের মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বব্যাপী সামাজিক ন্যায়বিচারের লক্ষ্যে জোরালো, সমন্বিত ও সুসংহত পদক্ষেপ গ্রহণ। পাশাপাশি আইএলও-এর মহাপরিচালকের প্রস্তাবিত ‘গ্লোবাল কোয়ালিশন ফর সোশ্যাল জাস্টিস’ শীর্ষক বৈশ্বিক জোট গঠনের উদ্যোগে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের সমর্থন নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সংসদ উপনেতা বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী ড. আনিসুল হক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম।

এমন আরো সংবাদ

এই সংবাদটিও পরতে পারেন
Close
Back to top button